এই কথা মনে রেখো-দুটো চোখ, দুটো কান, কিন্তু একটা মুখ। উপেক্ষা উপেক্ষা, উপেক্ষা। 'ন হি কল্যাণকৃৎ কশ্চিৎ দুর্গাতিং তাত গচ্ছতি'।
'এই জগতে ধনের সন্ধান করিতে গিয়া তোমাকেই শ্রেষ্ঠ রত্নরূপে পাইয়াছি; হে প্রভো, তোমারই নিকট আমি নিজেকে বলি দিলাম ।'
'ভালবাসার পাত্র খুঁজিতে গিয়া একমাত্র তোমাকেই ভালবাসার পাত্র পাইয়াছি। আমি তোমারই নিকট আমি নিজেকে বলি দিলাম।'
(যজুর্বেদ সংহিতা )
একটা পুরানো গল্প শোন। একটা লোক রাস্তা চলতে চলতে একটা বুড়োকে তার দরজার গোড়ায় বসে থাকতে দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে তাকে
জিজ্ঞাসা করলে-'ভাই, অমুক গ্রামটা এখান থেকে কতদূর? 'বুড়োটা কোন জবাব দিলে না। তখন পথিক বার বার জিজ্ঞাসা করেত
লাগলো, কিক্ত বুড়ো তবু চুপ ক'রে রইল। পথিক তখন বিরক্ত হয়ে আবার রাস্তায় গিয়ে চলবার উদ্যেগ করলে। তখন বুড়ো দাঁড়িয়ে
উঠে পথিককে সম্বোধন ক'রে বললে, 'আপনি অমুক গ্রামটার কথা জিজ্ঞাসা করছিলেন-সেটা এই মাইল-খানেক হবে।' তখন পথিক
তাকে বললে, 'তোমাকে এই একটু আগে কতবার ধরে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তো তুমি একটা কথাও কইলে না-এখন যে ব'লছ,
ব্যাপারখানা কি ?' তখন বুড়ো বললে, 'ঠিক কথা। কিন্তু প্রথম যখন জিজ্ঞাসা করছিলেন, তখন চুপচাপ দাঁড়িয়েছিলেন, আপনার যে
যাবার ইচ্ছে আছে, ভাব দেখে তা বোধ হচ্ছিল না-এখন হাঁটতে আরম্ভ করেছেন, তাই আপনাকে বললাম।'
হে বৎস, এই গল্পটা মনে রেখো। কাজ আরম্ভ ক'রে দাও, বাকি সব আপনা-আপনি হয়ে যাবে।
একটি কথা-মহাপুরুষেরা বিশেষ শিক্ষা দিতে আসেন, নামের জন্যে নহে, কিন্তু চেলারা তাঁদের উপদেশ বানের জ্বলে ভাসাইয়া নামের জন্য
মারামারি করে-এই তো পৃথিবীর ইতিহাস।
এদেশে (আমেরিকা) কেহ যদি উন্নতির পথে অগ্রসর হইতে থাকে তবে সকলের তাহার সহায়তা করিতে প্রস্তুত । আর ভারতবর্ষে কাল যদি
কোন একটি পএিকায় আপনি আমার প্রশংসা করিয়া এক ছাত্র লেখেন,তবে পরদিন দেশসুদ্ধ সকলে আমার বিপক্ষে দাঁড়াইবে । ইহার
হেতু কি ? হেতু-দাসসুলভ মনোবৃত্তি । নিজেদের মধ্যে কেহ সাথারণ স্তর হইতে একটু মাথা উঁচু কলরিয়া দাঁড়াইবে,ইহা তাহাদের পক্ষে
অসহ্য ।
এস, মানুষ হও। নিজেদের সংকীর্ণ গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে বাইরে গিয়ে দেখ, সব জাতি কেমন উন্নতির পথে চলেছে। তোমরা কি মানুষকে
ভালবাসো? তোমরা কি দেশকে ভালবাসো? তাহলে এস, আমরা ভাল হবার জন্য-উন্নত হবার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করি।
কলকাতায় বন্ধুদের এদিকে একবিন্দু ক্ষমতা নেই, অথচ হামবড়াইটা খুব আছে-তারা নিজেদের এত বড় মনে করে যে, অপরের পরামর্শ
শুনতে একদম নারাজ। এই অদ্ভুত ভদ্রলোকদের নিয়ে যে কি ক'রব তা বুঝি না-তাদের কাছ থেকে বেশী কিছু আশা করি না।
কাজ চিরকালই ধীরে ধীরে হয়ে এসেছে, চিরকালই ধীরে হবে; এখন ফলাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ ক'রে শুধু কাজ করেই খুশী থাকো; সর্বোপরি, পবিত্র
ও দৃঢ়-চিত্ত হও এবং মনে প্রাণে অকপট হও-ভাবের ঘরে যেন এতটুকু চুরি না থাকে, তা হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
কারও ওপর হুকুম চালাবার চেষ্টা ক'রো না-যে অপরের সেবা করতে পারে, সেই যথার্থ সর্দার হ'তে পারে।
কার্যক্ষেত্রে অবতরণ কর। কুড়েমির কাজ নয়। ঈর্ষা অহমিকাভাব গঙ্গার জলে জন্মের মতো বিসর্জন দাও ও মহাবলে কাজে লাগিয়া যাও।
বাকি প্রভু সব পথ দেখাইয়া দিবেন। মহা বন্যায় সমস্ত পৃথিবী ভাসিয়া যাইবে।
কার্যসিদ্ধর জন্য আমার ছেলেদের আগুনে ঝাঁপ দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এখন কেবল কাজ, কাজ, কাজ-বছর কতক বাদে স্থির হয়ে কে
কতদূর করলে মিলিয়ে তুলনা ক'রে দেখা যাবে। ধৈর্য'অধ্যবসায় ও পবিত্রতা চাই